সালিশে মারধরে কৃষকের মৃত্যু, ইউপি চেয়ারম্যান আটক

15

ডেস্ক রিপোর্ট :
সাতক্ষীরায় গ্রাম আদালতের সালিশে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বেধরক মারধরে আহত এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
মারা যাওয়া কৃষকের নাম গোলাম কুদ্দুস (৫০)। তিনি চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকালে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু হয়।
কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজ কিশোর পাল জানান, মঙ্গলবার সকালে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিনি একটি টেলিফোন পান। এ সময় তাকে বলা হয় চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদি গ্রামে একটি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এরপরই তিনি হিজলদিতে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এসআই আরও জানান, গোলাম কুদ্দুসের বিরুদ্ধে একটি নারীঘটিত অভিযোগ করেন তার প্রতিবেশী মনি ও তার ভাবী রাজিয়া খাতুন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের নির্দেশে গোলাম কুদ্দুসকে নোটিশ করে ডেকে আনা হয়।
শুক্রবার গ্রাম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকে বসে। এতে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ও দুই চৌকিদার দিলীপ ও অশোক। গ্রাম আদালতের বিচারে গোলাম কুদ্দুসকে দোষী সাব্যস্ত করে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করেন চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন গোলাম কুদ্দুস।
এসআই রাজ কিশোর আরও বলেন, গোলাম কুদ্দুস বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এসআই রাজ কিশোর কলারোয়া হাসপাতালের এক প্রাথমিক রিপোর্টের বরাত দিয়ে জানান, মৃত গোলাম কুদ্দুস দেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য গোলাম কুদ্দুসের লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম, অভিযোগকারী মনি ও তার ভাবী রাজিয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কলারোয়া থানার ওসি মুনীর উল গীয়াস জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্র- যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here