তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর:

শীতকালীন সবজি লক্ষ্মীপুরের বাজার গুলোতে আসা শুরু করলেও দাম কমছে না। আড়তগুলোতে কম হলেও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে সবজির চড়া দাম নিচ্ছে। এতে অতিরিক্ত দামে সবজি কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। প্রতিনিয়ত সবজিমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষগুলো। সবজির দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে হওয়ায় অনেক পরিবারেই কিনতে পারছেন না। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছেন।

জেলা শহরসহ উপজেলার আড়ৎ ও খুচরা বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আড়তে কাঁচামরিচ ৮৫ টাকা কেজি, শিম ৪৫ টাকা, টমেটো ৯০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, করলা ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসাধু খুচরা বিক্রেতারা ১৫০ টাকায় কাঁচা মরিচ, ৯০ টাকায় শিম, ৮০ টাকায় মুলা, ১০০ টাকায় করলা বিক্রি করছে। প্রত্যেকটি সবজি কেজিতে ৫০ শতাংশ লাভ করছে তারা। এতে অতিরিক্ত দামে কাঁচা তরকারি কিনতে গিয়ে সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খাচ্ছে জনগণ। এমন পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সচেতন মহল।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে লক্ষ্মীপুর পৌর কাঁচা বাজার ও রায়পুর শহরের আলীয়া মাদরাসা সড়কের কাঁচাবাজারে গিয়ে সবজির মূল্যের এমন পার্থক্য দেখা যায়। এদিকে পরিবহন খরচ বেশি বলে সবজির দামও বেশি বলে দায় সারছেন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা। এ বাজারে বেশিরভাগ সবজিই রায়পুরের বাজার থেকে কিনে আনেন তারা। কিন্তু রায়পুর থেকে লক্ষ্মীপুর পৌর কাঁচা বাজারের দূরত্ব সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে বড় কাঁচা তরকারির পাইকারি বাজার রায়পুর। এ বাজারে ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পাইকারি দরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সবজি কেনাবেচা হয়। স্থানীয় সবজির পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে বিভিন্ন কাঁচা পন্য আসে। কয়েক ঘন্টায় বাজারটি বেশ জমজমাট হয়ে উঠে। এ বাজারের সবজি খুচরা ব্যবসায়ীর জেলার সবগুলো বাজারে যায়।

রায়পুর পৌর কাঁচা বাজারের সবজি কিনতে আসা বৃদ্ধ শহীদ পাটোয়ারী জানান, কাঁচা তরকারি অনেক দাম। এর চেয়ে মাছ ও ব্রয়লার মুরগির দাম কম। সবজি কিনতে গেলে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কষ্ট হয়ে যায়। দাম না কমলে সবজি খাওয়া যাবে না।

লক্ষ্মীপুর ও রায়পুর পৌর কাঁচা বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতারা জানায়, আড়তে দাম কম হলেও পরিবহণ খরচ বেশি। এজন্য আমরা বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে হয়। এদিকে আড়ত মালিক মোঃ ইউসুফ সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতের সবজি আসা শুরু করে আগের চেয়ে এখন অনেকটাই দাম কমেছে। তবে কি কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিচ্ছে সেটি তারা জানেন না।

রায়পুুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী বলেন, শীতের সবজির আড়ত ও খুচরা বাজার তদারকি করা হবে। সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ ক্রেতাদেরকেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here