তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর :
অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের মামলায় কারাগারে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের গাড়ী চালক নুর হোসেন পাটওয়ারী ও তার ভাই আমির হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পৃথক দুটি মামলা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা দায়েরা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, জেলা ও দায়রা জজ রহিবুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্থন করলে জামিন না মঞ্জুর করে চালক নুর হোসেনকে কারাগারে পাঠান।
অভিযুক্ত চালক নুর হোসেনের আইনজীবী এডভোকেট হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন,দুদকের কাছে সম্পদের হিসাব না দেওয়া ও জামিন অযোগ্য ধারা হওয়ায় তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
বিবাদী নুর হোসেন ও আমির হোসেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের যাদৈয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ উল্যা পাটওয়ারীর ছেলে। নুর হোসেন লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের গাড়ি চালক ও তার ভাই আমির হোসেন শহরের একজন ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৮ জুলাই আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে থাকার অভিযোগে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয় চালক নুর হোসেন ও তার ভাই আমির হোসেনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করেন। এর আগে ওই কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করা হয়।
২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় নোয়াখালী কার্যালয়কে ওই দুই ভাইয়ের সম্পদ বিবরণীর আদেশ জারির নির্দেশ দেয়। এ প্রেক্ষিতে ২৯ ডিসেম্বর নোয়াখালী কার্যালয় বিবরণীর আদেশ জারি করা হয়। এর মধ্যে নুর হোসেনকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ও আমির হোসেনকে ১৬ ফেব্রুয়ারি সম্পদ বিবরণীর ফরম বুঝিয়ে দেয়া হয়। নুর হোসেন তার সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ তাদেরকে ফরম বুঝিয়ে দিয়ে অফিস কপিতে স্বাক্ষর নেন। কিন্তু ফরম বুঝে পাওয়ার দিন থেকে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করার কথা থাকলেও তারা তা করেনি। এমনকি তারা সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি। এজন্য দুদক আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here