লক্ষ্মীপুরে কামারশালায় শুনা যাচ্ছে না টুং টাং শব্দ

6

তাবারক হোসেন আজাদ  : 

টানত হাপর, পুড়ত কয়লা, জ্বলত লোহা। হাতুড়ির বাড়িতে বাড়িতে তৈরী হতো দৈনন্দিন জীবনে কাজের উপযুক্ত দ্রব্য সামগ্রী ছুরি, হাসুয়া, কাছি, দা, বটি, চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি।

লক্ষ্মীপুরের সদরসহ পাঁচ উপজেলার বাজারগুলোতে কামারশালাগুলো এখন মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে হাতুড়ি আর লোহার টুং টাং শব্দে মুখরিত ছিলো। কিন্তু করোনা মহামারী কারণে সেই শব্দগুলো এখন আর শুনা যায় না।

সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে জ্বলত কামার দোকানের চুলার আগুন। তাই কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহার পিটাপিটিতে টুং টাং শব্দে মুখর হয়ে থাকত কামার শালাগুলো। আর সামনে আগুনের শিখায় তাপ দেয়া হাতুড়ি পেটানোর টুং টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা-বটি, চাপাতি ও ছুরি। তাই যেন দম ফেলার সময় ছিল কামারদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন রাত কাজ করতেন কামাররা।

কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যেতেন তারা। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যেত কামারদের কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসে কারণে তেমন কোন কাজ নাই বেচা বিক্রি নেয় বললে চলে। করোনার কারনে এবার কুরবানি কম হবে মনে হচ্ছে। এ কারনে কামারদের নেই কোন কাজ ও ব্যবসা বাণিজ্য।

শনিবার (২৫ জুলাই) রায়পুরের চরবংশির মোল্লারহাট বাজারের দিন সরজমিনে কয়েকজন কামারের সাথে কথা বলে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, দা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বটি ৩০০ থেকে ৫০০ পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাপাতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কুরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লা ও শ্রমিকের মূল্য বেড়ে গিয়েছে। আগে প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিলো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। সেই কয়লা এখন আমাদের ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই আমরা চাপাতি, ছুরি ও দায়ের দাম একটু বেশি নিচ্ছি। তা না হলে আমাদের লাভ হবে না।

রামগন্জ, মান্দারি, চন্দ্রগন্জ ও কমলনগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে কামারদের নেই ব্যস্ততা। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতেও লোকজনের ভিড় নেই দোকানে। অন্য কুরবানির ঈদে যেমন শ্রমিক বেশি লাগত এই ঈদে তেমন শ্রমিক লাগছে না। এজন্য প্রায় বেশির ভাগ শ্রমিকরা অবসর সময় পার করছেন।

রায়পুর পৌরসভার কামার অজিত কর্মকার (৪৫) বলেন, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লা ও র্যাত দাম ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এখন আর নাই।
আরেক কামার অমূল্য কর্মকার বলেন, ৩০ বছর এ কাজে সাথে রয়েছি। কুরবানির ঈদ উপলক্ষে আমাদের বেচা কেনা দ্বিগুণ থাকলে এবার করোনা ভাইরাসে কারণে কোন কাজ নাই । ঈদের দু’দিন আগে বেচাকেনা হতে পারে আশা করছি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here