মেঘনার পাড়: যেন মিনি কক্সবাজার

80

তাবারক হোসেন আজাদঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউপি একটি মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল। শহর থেকে ১৩ কিঃমিঃ দুরেই আলতাফ মাষ্টারের মাছ ঘাট। এখানে ডানে-বাঁয়ে বালু চিকচিক করা স্থলভূমি থাকলেও সামনে শুধু রুপোর মতো চকচকে পানি। এটা মেঘনা, আমাদের প্রিয় মেঘনা নদী। এখান থেকে প্রতিদিন জেলা সদরের-মজুচৌধুরিঘাট-রামগতি-কমলনগর- বরিশাল-ভোলা- চাঁদপুর সদর ও হাইমচর ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করে। এত দিন অনেকটা আড়ালে থাকলেও রায়পুর শহর থেকে ১৩ কিঃমিঃ পথ দুরুত্বে বেড়ানোর ‘হটস্পট’ এখন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাষ্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদারের এই মাছঘাট। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া মাছঘাটের নতুন নাম হলো—মিনি কক্সবাজার !

প্রমত্তা মেঘনার হাঁকডাক আগের মতো না থাকলেও যা আছে সেটাই বা কম কী ! বিশাল মেঘনার রূপ মাছঘাট এলাকায় বিস্ময়-জাগানিয়া। একটু পরপর মেঘনার ঢেউ কূলে আঁছড়ে পড়ছে। খানিক পরপর মাছ ধরার ট্রলার ছুটে চলে যাচ্ছে। তীরে সব ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়। তাঁদের কেউ কেউ মাছ ধরার নৌকা দেখে মাছ কেনার জন্য এগোচ্ছেন। দরদাম ঠিক থাকলে অনেক পর্যটক মাছ কিনে নিচ্ছেন। পুরো নদীর তীর ও তার আশপাশের এলাকা সমুদ্রসৈকতের মতো করে সাজানো। এখানে সকালবেলাটা খুব ভালো কাটে, দুপুর কিছুটা মন্থর, তবে বিকেলবেলা অনেক বেশি জমজমাট। সোনা রোদের গোধূলিবেলার তো কোনো তুলনাই চলে না। মেঘনার পাড়ের দোকানপাটে বেচাকেনা আর মেঘনার জলে ঘুরে বেড়ানো। মেঘনার দুপাশের বিস্তীর্ণ ভূমি আর মেঘনার ঢেউ আছড়ে পড়ার দৃশ্যে আপনার সমুদ্র ঊর্মিমালার কথাই মনে হবে। আপনি হেঁটে হেঁটে চলে যাবেন বহুদূর। এখানে মেঘনার জলে পা ভিজিয়ে গল্প করার মজাই আলাদা ! প্রতি ঈদের সময় – বিশেষ দিন-শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের (প্রায় লক্ষাধিক) ভীড়ে মুখরিত থাকে মাছ ঘাটটি।। রোববারও (০২ জুলাই) একই চিত্র দেখা গেলো।

রায়পুর বাসটার্মিনাল থেকে-সরাসরি সিএনজি অটোরিকশা-মাইক্রো বাসে মেঘনাঘাট চলে আসে। যাদের নিজস্ব বাহন আছে, তাদের তো কথাই নেই। বাস বা নিজস্ব বাহন থেকে নেমেই চোখে পড়বে নানা ধরনের পসরা সাজিয়ে বসা অনেক দোকানপাট। খাবারের দোকান তো আছেই। এসব পেছন ফেলে সামনে গেলেই পাবেন বিশাল মেঘনা। এতটা বিশাল যে ওপারের কিছুই দেখা যায় না, দেখা যায় না ডান-বাঁয়ের কোনো বসতি। এখানে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করে। চাইলে ট্রলারে চেপে ওপারের কুচিয়ামারা- চরভৈরব-হাইমচর থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। আবার ঘণ্টা চুক্তিতে ট্রলার বা স্পিডবোট ভাড়া করে মেঘনার বুকে ভেসে বেড়াতে পারেন। যা-ই করেন এখানে সময়টা কিন্তু বেশ কাটবে !

দরকারি কথা:-
আলতাফ মাষ্টারের মাছ ঘাট সারা দিনের ট্যুর। দিনে গিয়ে দিনেই ফেরত আসতে পারবেন।-রায়পুর বাসটার্মিনাল থেকে লক্ষ্মীপুর সড়ক দিয়ে বাসাবাড়ী বাজার হয়ে হায়দরগন্জ আনোয়ার হুজুর বাড়ীর সামনে দিয়ে সিএনজি ও মাইক্রোবাস সরাসরি যাওয়া যায়। আপনাকে আধা ঘণ্টায় মেঘনাপাড়ের আলতাফ মাষ্টারের মাছ-ঘাট পৌঁছে দেবে। ভাড়া ১০০ টাকা। তবে দলবেঁধে মাইক্রোবাস নিয়ে গেলে দারুণ একটা পিকনিক পিকনিক ভাব পাবেন। মাছঘাট তো অবশ্যই যাবেন। দেখে আসতে পারবেন অসাধারন চরভৈরব -হাইমচর ও বিশাল চরাঞ্চলের গরু ও মহিষের পাল।-খাবার নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। ঘাটেই রয়েছে ছাপরাঘরের মতো কিছু ভালো রেস্তোরাঁ ও হোটেল। একেবারে ঘরের খাবারের স্বাদই পাবেন। বাচা মাছ, চিংড়ি আর মেঘনা ইলিশে মন-প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।

সচেতনতা:-
বলা হয় প্রমত্তা মেঘনা। তার আগের সে রূপ না থাকলেও হালকাভাবে নেবেন না। এখন নদীতে গোসল করা নিষেধ। কেউ গার্ডের অবাধ্য হয়ে কিছু করবেন না। পানিপথে যাতায়াতে বা ট্রলারে ঘুরে বেড়ানোর সময় একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সম্ভব হলে সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখবেন। একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, আপনার বা আপনার ভ্রমণসঙ্গীদের দ্বারা পরিবেশ হুমকিতে পড়ে এমন কোনো কিছু অবশ্যই করা চলবে না। পলিথিন বা প্লাস্টিকের বোতলসহ পরিবেশ বিপন্ন হয় এমন কিছু ফেলে আসবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here