তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর:

সম্পদ ফিরে পেতে আদালতে মামলা করায় প্রবাসী ছেলের দ্বারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা (৮৪) ও তার স্ত্রী (৬২)। পিতা-মাতাকে বাঁচাতে গিয়ে হাফেজ ছোট ছেলেও আহত হয়। আহত বৃদ্ধ ও তার স্ত্রীকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউপির উত্তর সাগর্দি গ্রামের আমিন উল্লাহ মুন্সি বাড়ীতে। এঘটনায় স্বজনদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে বিচার চেয়ে আহত কর্মকর্তা হাফেজ বৃদ্ধ সোলায়মান বাদী হয়ে তার প্রবাস ফেরত ছেলে মনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী লাবনী আক্তার দোলনকে আসামী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়-আহত কর্মকর্তা সোলায়মান জানান, তিনি ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ বেতারের হিসাব রক্ষন কর্মকর্তার পদ থেকে অবসর নিয়ে সৌদি আরব চলে যান। ২০০৪ সালে রায়পুর শহরের মধুপুর গ্রামের নুরানী হাফেজিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা শেষে চলতি বছরের মার্চ মাসে বাড়ীতে অবসর জীবন যাবন করছেন। তার স্ত্রীসহ ৪ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে তার অগোচরে ছেলে আবু সিদ্দিক ও প্রবাস ফেরত ছেলে মনোয়ার হোসেন তনছক দলিলের মাধ্যমে এক একর ২৬ শতাংশ জমি গোপনে হেবায়েত করে নেয। এঘটনায় দুই ছেলের কাছে জানতে চাইলে তারা অপমান-অপদস্ত করে তাকে।

এঘটনার বিচার ও ভুয়া দলিল বাতিলের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই তিনি লক্ষ্মীপুর আদালতে ছেলে মনোয়ারসহ পাঁচ ছেলে-মেয়ের নামে মামলা করেন। করোনার কারনে চলতি বছরের মার্চ মাসে মনোয়ার সৌদি থেকে দেশে আসে। এ মামলা করার কারনে আরো দুইবার সোলায়মান ও তার স্ত্রীকে বেদম মারধর করে ছেলে মনোয়ার ও তার স্ত্রী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ও ওই মামলা তুলে না নেয়ায় মনোয়ার ও তার স্ত্রী লাবনী আক্তার বৃদ্ধ পিতা সোলায়মান ও মাতাকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্নক আহত করে। এসময় পিতা-মাতাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদের ছোট ছেলে হাফেজ আব্দুল কাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে।

এঘটনায় অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন বলেন, আমি আদালতে আছি, পরে কথা বলবো। আমাদের পারিবারিক বিরোধ আমরাই মিটে নিবো। আপনার সমস্যা কোথায়-? বলে ফোন কেটে দেন।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, হামলার শিকার আহত বৃদ্ধ সোলায়মান বাদি হয়ে তার ছেলে ও ছেলের বউ’র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সোলায়মান মিয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here