এ বছরেই মিলতে পারে মডার্নার ভ্যাকসিন: যুক্তরাষ্ট্র

7

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি মডার্নার উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা এই বছরের শেষ নাগাদ ব্যবহার উপযোগী হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। সোমবার (২৭ জুলাই) ওষুধ কোম্পানিটি ৩০ হাজার মানুষের ওপর তাদের ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এই ধাপের পরীক্ষাতে নিরাপদ প্রমাণিত হলে এটি নিয়ন্ত্রণকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। এই ঘোষণার পরই ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক কোম্পানি মর্ডানার শেয়ারের দাম বেড়েছে নয় শতাংশ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।.

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মনে করে একটি কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেই করোনাভাইরাস মহামারির অবসান হবে। আর তা উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে চলছে দেড় শতাধিক প্রচেষ্টা। এর মধ্যে প্রায় ২৪টি ভ্যাকসিন মানুষের ওপর পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে মডার্না। গত মার্চে পরীক্ষামূলকভাবে এটি প্রথম মানুষের শরীরে প্রথম প্রবেশ করানো হলে সফলতা পাওয়া যায়। ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজে গতি আনতে মার্কিন সরকারের একটি তহবিল থেকে প্রায় একশ’ কোটি ডলার বরাদ্দ পেয়েছে তারা।

ভ্যাকসিনটির তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পরিচালক ফ্রান্সিস কলিন্স বলেন, ‘একটি নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করে ২০২০ সালের শেষের নাগাদ বিতরণ করতে পারা একটি বিস্তৃত লক্ষ্য, কিন্তু মার্কিন জনগণের কাছে এটাই সঠিক লক্ষ্য।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কলিন্স জানান, ভ্যাকসিন যখন নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণ হবে তখনই এটির লাখ লাখ ডোজ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রস্তুত থাকবে।

মডার্নার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষার পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে এই ভ্যাকসিনটির নিরাপত্তা নির্ধারণ করা যায় আর একই সঙ্গে কোভিড-১৯ লক্ষণ দেখা যাওয়া রোগীদের ওপর ভ্যাকসিনটির দুই ডোজ প্রয়োগের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি জানান, এই পরীক্ষার ফলাফল নভেম্বর, ডিসেম্বর কিংবা তারও আগে পাওয়া যেতে পারে। ছোট আকারে চালানো পরীক্ষাগুলোর ফলাফল দেখার পর থেকে ভ্যাকসিনটির নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আর বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন না বলে জানিয়েছেন ফাউচি। চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ইনজেকশনের মাধ্যমে দুই ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।

মডার্না বলছে, অনুমোদন পেলে প্রতিবছর ৫০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারবে তারা। আর ২০২১ সালের শুরু থেকে বছরে একশ’ কোটি ডোজ উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে আশা করছে তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here